প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উদ্যোক্তা হতে কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী ব্যাংকসহ বহু প্রতিষ্ঠান ঋণ দিচ্ছে, তাই উদ্যোগ নিন, উদ্যোক্তা হোন।
রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২১’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) সহায়তা করতে এবং কোভিড-১৯ মহামারী জন্য ক্ষতিগ্রস্ত বাজার উন্নত করার লক্ষ্যে ৮ দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে খাদ্য উৎপাদন ও শিল্পায়ন দুটোই প্রয়োজন। এজন্য সুনির্দিষ্ট জায়গায় শিল্পায়ন করতে হবে, যাতে উৎপাদন ব্যহত না হয়। এজন্য সারাদেশে ১০০টি শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। এসবের মধ্যে শিল্পায়ন করতে হবে। তাতে বর্জ্যব্যবস্থাপনাও ঠিক থাকবে। পরিবেশও নষ্ট হবে না।’
এসএমই ফাউন্ডেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি উদ্যোক্তা হয় তবে সে কোথায় কারখানা করবে সেটা ঠিক করে দেয়ার ব্যবস্থা নিন। নিজস্ব জায়গায় করলে, সেখানে কীভাবে বর্জ্যব্যবস্থাপনা করবে সেটা ভালোভাবে দেখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অঞ্চলভিত্তিক শিল্পকে কাজে লাগাতে হবে। যে অঞ্চলে যে পণ্য উৎপাদন হয় সেগুলো কাজে লাগানোর জন্য ওই অঞ্চলে ওই ধরনের শিল্পনগরী করতে হবে। তবে আমরা কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। মাছ ও সবজি উৎপাদন অনেক বাড়িয়েছি। এজন্য উদ্বৃত্ত সম্পদকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশি বাজার ধরতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা বলেছিলাম। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। ’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমৃদ্ধ ও টেকসই অর্থনীতির ভিত গড়তে হলে দেশে শ্রমঘণ ও স্বল্পপুঁজির এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি করা প্রয়োজন। সবধরনের শিল্পই সমগ্র বাংলাদেশে গড়ে তুলতে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার।
প্রথমবারের মতো এ মেলায় ১০টি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মেলায় অংশ নিচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিশেষ অতিথি শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জাতীয় এসএমই পুরস্কার ২০২১ বিজয়ী চার উদ্যোক্তার হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও চেক তুলে দেন।



