বর্তমান বিশ্বে, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারে এক ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। পূর্বের তুলনায় এখন ইসলাম ধর্মের শিক্ষা, আদর্শ এবং মূল্যবোধ প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বড় বাধা-বিপত্তি বা বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। সরকারী সহযোগিতা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির সুফল গ্রহণের ফলে ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পরিবেশ অনেক বেশি অনুকূল হয়েছে।
ধর্মপ্রাণ মানুষ আজ মুক্তভাবে মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামিক সংগঠন এবং সামাজিক মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দিতে পারছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় সভা-সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার এবং কর্মশালার মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ও মানবিক দিকগুলো সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ধর্মীয় অনুভূতি ও স্বাধীনতা সংরক্ষণের মাধ্যমে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে ইসলামিক বই-পুস্তক, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব চ্যানেল এবং বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইসলাম ধর্ম প্রচারে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক বাধার সম্মুখীন না হয়ে এখন আরও গঠনমূলক ও সৃষ্টিশীল উপায়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ সময়ের এ অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আমাদের উচিত ইসলামের সত্য বার্তা, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবতার মর্মবাণী সঠিকভাবে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেয়া। ইসলামের নামে কোনো ভ্রান্ত বার্তা বা ভুল ব্যাখ্যা যাতে প্রচারিত না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। শুধুমাত্র কোরআন ও হাদীসের নির্ভুল ব্যাখ্যার আলোকে ধর্ম প্রচারের কাজ পরিচালনা করাই এখন সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান সময়ে ইসলাম ধর্ম প্রচার এক নবদিগন্তের দ্বার উন্মুক্ত করেছে যেখানে বাধাহীন, সুসংগঠিত এবং শান্তিপূর্ণভাবে আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



